সামাজিক সমস্যা বলতে কী বুঝ? সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় আলোচনা কর।

সামাজিক সমস্যা বলতে কী বুঝ?  সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় আলোচনা কর।


সামাজিক সমস্যা বলতে কী বুঝ?  সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় আলোচনা কর।


ভূমিকা : 


মানুষের অপূরণজনিত চাহিদা এবং দ্বন্দ্বময় জীবনের ক্রিয়াকলাপ থেকে সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়। সামাজিক সমস্যা সমাজে অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের মানুষ এ ধরনের ক্ষতিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। সামাজিক সমস্যাকে সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব না হলেও তা লাঘব করা সম্ভব হয়।


সামাজিক সমস্যা : 


সামাজিক সমস্যা মূলত দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। একটি হলো সামাজিক, অন্যটি হলো সমস্যা। তাই বলা যায়, সামাজিক সমস্যা হলো সমাজের মানুষের অবাঞ্ছিত, অসম ও দ্বন্দ্বপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজ কাঠামো। সহজভাবে বলা যায়, সমাজের সামগ্রিক মঙ্গল ও কল্যাণের পরিপন্থি অবস্থা এবং প্রতিকূল সামাজিক পরিস্থিতিকে সামাজিক সমস্যা বলা হয় ।


প্রামাণ্য সংজ্ঞা :


রবার্ট এল. বার্কার তার The Social Work Dictionary'   গ্রন্থে সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে বলেন, অর্থাৎ সামাজিক সমস্যা এমন এক ধরনের অবস্থা, যা সমাজের মানুষদেরকে সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রথার পরিপন্থি কাজের দিকে ধাবিত করে এবং আবেগীয় ও অর্থনৈতিক দুর্দশা তৈরি করে।


সমাজবিজ্ঞানী হিট এবং লেসলি বলেন, “সামাজিক সমস্যা বলতে এমন এক পরিস্থিতিকে বুঝায় যা অবাঞ্ছিত এবং যার প্রতিকার সংঘবদ্ধভাবে করা উচিত।”


সমাজবিজ্ঞানী লেসলির এর মতে, “সমাজিক সমস্যা বলতে এমন অবস্থা বুঝায়, যা সমাজের অধিকাংশ লোকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং যা সমষ্টিগতভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন হয়।”


সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য:


সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য: নিম্নে সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-


১. অনভিপ্রেত ও অস্বাভাবিক অবস্থা: 


সামাজিক সমস্যা সমাজে এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে। এটি সমাজের মানুষের জন্য অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত। সমাজের অধিকাংশ লোক এ ধরনের পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে না। ফলে সমাজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় ।তাই এটি সামাজিক সমস্যার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।


২. সমাজ থেকে উৎপত্তি :


সামাজিক সমস্যার আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উৎপত্তি সমাজ থেকে । সমাজের মানুষের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। সমাজের বাইরের কোনো সমস্যা সামাজিক সমস্যা নয়। মানুষ জেনে ও না জেনে বিভিন্নভাবে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।


৩. অধিকাংশ লোকের ওপর ক্ষতিকর : 


সামাজিক সমস্যা সমাজের বেশিরভাগ লোকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । ফলে তারা এ ক্ষতিকর অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে । সমাজের কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হবে না ।


৪. গতিশীল ও পরিবর্তনমুখী : 


সামাজিক সমস্যা সব সমাজে ছিল এবং আছে। তবে সমস্যাগুলো গতিশীল ও পরিবর্তনশীল । এজন্য সামাজিক সমস্যার গতিপ্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সমাজের সাথে সমস্যাও পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন নতুন সমাধান ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, আবার নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। 


৫. সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধ পরিপন্থি : 


সামাজিক সমস্যার আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রচলিত সমাজের আদর্শ, মূল্যবোধ ও ধ্যানধারণা পরিপন্থি কাজ করে। এটি সবসময় সমাজের বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকে। যেমন— যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন সর্বদা সমাজের জন্য অপ্রত্যাশিত।


৬. পরিমাপযোগ্য : 


সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি পরিমাপযোগ্য। যেকোনো সামাজিক সমস্যা যেমন পরিমাপ করা যায় তেমনি এর ক্ষতিকর প্রভাবও অনুভব করা যায়। 


৭. জীবনযাত্রার অন্তরায় :


সামাজিক সমস্যা সমাজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এটি সামাজিক উন্নতি অগ্রগতির পথে বাধা দেয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাই সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্য হলো এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতিবন্ধক। 


৮. সমস্যার পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক : 


সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক সমস্যাগুলো পরস্পর আন্তঃসম্পর্কিত  একটি সমস্যার কারণে আরও কয়েকটি সমস্যা তৈরি হয় এবং বহুমুখী সমস্যার জন্য বহুমুখী সমাধান ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। যেমন— দারিদ্র্য নিজেই সামাজিক সমস্যা এবং এটি অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই বলা যায়, সামাজিক সমস্যাগুলো পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। 


৯. সমাজভেদে ভিন্নতা : 


সামাজিক সমস্যা সমাজভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। কোনো একটি সমাজে যেটি সামাজিক সমস্যা অন্য সমাজে সেটি সামাজিক সমস্যা নাও হতে পারে। যেমন— উন্নত দেশে যাকে দারিদ্র্য সমস্যা বলা হয় আমাদের দেশে সেটি দারিদ্র্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।  তাই সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমাজভেদে ভিন্ন হয় ।


১০. উন্নয়নের পথে অন্তরায় :


সামাজিক সমস্যা সামাজিক উন্নতি, অগ্রগতি, প্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত। এটি সমাজের মানুষের উন্নতি, সমাজ কাঠামোর উন্নতি বা ইতিবাচক পরিবর্তনে বাধা দান করে। উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার ফলে সমাজে আরও অনেক নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়। এজন্য উন্নয়নের পথে অন্তরায় সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য ।


বাংলাদেশে সামাজিক সমস্যার কারণ : 

সামাজিক সমস্যার পিছনে বহুমুখী কারণ বিদ্যমান। সমাজবিজ্ঞানী Wolf সামাজিক সমস্যার জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আবার মনীষী ইউলিয়ট এবং মেরিল এর মতে, পাপাচার হলো সামাজিক সমস্যার প্রধান কারণ। নিম্নে বাংলাদেশে সামাজিক সমস্যার কারণগুলো আলোচনা করা হলো-


১. অতিরিক্ত জনসংখ্যা : 

সামাজিক সমস্যার একটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যা অনেক এবং এসব জনগণ সম্পদ না হয়ে বোঝা হিসেবে দেখা দেয়। অতিরিক্ত জনসংখ্যা দেশের সম্পদ কাঠামো, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নানা খাতে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করে। যেকোনো দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হলে যেমন সমস্যা, তেমনি কম হলেও দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে না। তাই জন্ম হার ও মৃত্যু হার সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী । তাই জনসংখ্যা স্ফীতি সামাজিক সমস্যার অন্যতম কারণ।


২. দারিদ্র্য :

পৃথিবীতে যতগুলো সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে দারিদ্র্য শীর্ষে। দারিদ্র্য এমন একটি সামাজিক সমস্যা, যা অন্যান্য বহু সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী। দারিদ্র্য ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দারিদ্র্যের কারণে অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, কুসংস্কার বিভিন্ন অপরাধ পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া দারিদ্র্যের কারণে কৃষি, শিল্পের অনগ্রসরতা, গৃহ ও বস্তি সমস্যা, পারিবারিক ভাঙন, বেকারত্ব সৃষ্টি, স্বাস্থ্যহীনতা দেখা দেয়। পৃথিবীর উন্নত দেশে অপেক্ষাকৃত সামাজিক সমস্যা কম কারণ সেসব দেশে দারিদ্র্য সমস্যা নেই। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণে সচেষ্ট থাকতে হবে।


৩. সম্পদ ও সুযোগের ত্রুটিপূর্ণ বণ্টন :

যেকোনো উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো সম্পদ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা। সম্পদ ও সুযোগের ব্যবহার সঠিক না হলে সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। দেখা দেয় নানামুখী সামাজিক সমস্যা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশিরভাগ সম্পদ মুষ্টিমেয় মানুষের অধিকারে থাকে। ফলে সামগ্রিকভাবে গোটা সমাজব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় । তাই সামাজিক সমস্যার একটি অন্যতম কারণ হলো সম্পদ ও সুযোগের অসমতা ।


৪. মৌল মানবিক চাহিদার অপূর্ণতা : 

প্রতিটি মানুষের কিছু মৌল মানবিক চাহিদা রয়েছে, যেগুলো পূরণ করা অত্যাবশ্যক। ব্যক্তি যখন এসব চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তখন তার মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে সে অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়ে, যা ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই সামাজিক সমস্যার একটি কারণ হিসেবে মৌল মানবিক চাহিদার অপূরণজনিত অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়।


৫. প্রাকৃতিক দুর্যোগ : 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাজিক সমস্যার একটি কারণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙন, ভূমিকম্প প্রভৃতির ফলে দরিদ্রতা, ভিক্ষাবৃত্তি, বেকারত্ব, বস্তি সমস্যা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে সচেতন হলে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব। 


৬. ত্রুটিপূর্ণ সমাজকাঠামো : 

ত্রুটিপূর্ণ সমাজকাঠামো সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী। প্রত্যেক সমাজে নিজস্ব রীতিনীতি, আচার- ব্যবহার রয়েছে। তাই সমাজব্যবস্থার ওপর যদি কোনো জটিলতা থাকে সমাজের সদস্যদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে জন্ম নেয় নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা।


৭. সামাজিক পরিবর্তনশীলতা :

সমাজ সর্বদা পরিবর্তনশীল ও গতিশীল । পরিবর্তনশীল সমাজে সবসময় নতুন নতুন প্রথা রীতিনীতি চলমান থাকে। এর ফলে সমাজের মানুষ এ পরিবর্তনশীলতার সাথে খাপখাওয়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা দেখা দেয় ।


৮. সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব : 

প্রতিটি সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি হয়েছে। সংস্কৃতি যেহেতু বহুমুখী উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত সেহেতু এসব উপাদানে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে ব্যক্তির মধ্যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব ও শূন্যতা দেখা দেয়, যা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে।


৯. শিল্পায়ন ও শহরায়ন : 

বর্তমান শিল্পায়ন ও শহরায়নের ধারায় জীবন গতিশীল হলেও নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিল্পায়নের ফলে বস্তুগত পরিবর্তন খুব দ্রুত হচ্ছে। এক্ষেত্রে বস্তুগত পরিবর্তনের সাথে সমাজের অন্যান্য উপাদান আনুপাতিক হারে সামঞ্জস্য বিধান করতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিল্পায়নের ফলে বস্তি, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, পতিতাবৃত্তি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্য সমস্যা, শিশুশ্রম প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই শিল্পায়ন ও শহরায়ন সামাজিক সমস্যার একটি কারণ।


১০. রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা : 

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি সমাজের আদর্শ ও মূল্যবোধে আঘাত করে, যা সমাজজীবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শ্রমিক অসন্তোষ, সংঘাত, যুব অসন্তোষ, মারামারিসহ বহুমুখী সমস্যা দেখা দেয় । তাই রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাজিক সমস্যার কারণ ।

 

বাংলাদেশ বিরজমান সামাজিক সমস্যাসমূহঃ


বাংলাদেশে বহুমুখী সমস্যা বিরাজমান। এসব সমস্যার মধ্যে সামাজিক সমস্যা তার অন্যতম। সামাজিক সমস্যার কারণে বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্নে বাংলাদেশের বিরাজমান সামাজিক সমস্যাগুলো আলোচনা করা হলো-

১. জনসংখ্যাস্ফীতি:  

দেশের জনসংখ্যা যখন নির্দিষ্ট সময়ে কামান্তর অতিক্রম করে তখন তাকে জনসংখ্যাস্ফীতি বলা হয়। জনসংখ্যা স্ফীতি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যার কারণে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বেকারত্ব সমস্যা ও জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে জটিল আকার ধারণ করছে। ১৯৭৬ সালে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।


২. দারিদ্র্য : 

বাংলাদেশ পৃথিবীর দারিদ্র্য দেশগুলোর মধ্যে একটি। পরে যদিও বর্তমানে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিবেচনা স্তি, করা হয়। বাংলাদেশে দারিদ্র্য যে একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বিশ্বব্যাংকের মতে, যদি কোনো ব্যক্তির মাথাপিছু আয় ৫০ ডলার বা তার কম হয় তবে সে দরিদ্র হিসেবে বিবেচিত। এটি এক প্রকার নেতিবাচক অবস্থা, যার কারণে ব্যক্তি তার জীবনধারণের ন্যূনতম মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। দারিদ্র্য উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে কাজ করে। 


৩. নিরক্ষরতা :

সাক্ষরতার বিপরীত হচ্ছে নিরক্ষরতা। এটি মানুষকে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ ও স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করে নিরক্ষরতার কারণে জনসংখ্যা সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা জটিল সমস্যা একমাত্র নিরক্ষরতার কারণে পরিলক্ষিত হয় । তাই জাতীয় উন্নতি, অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য নিরক্ষরমুক্ত সমাজ গঠন করা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।


৪. বেকারত্ব :

যাদের কাজ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য আছে কিন্তু কাজ পায় না তাদেরকে বেকার বলে। আর তাদের অবস্থাকে বেকারত্ব বলে। বাংলাদেশে বর্তমানে বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে বেকার বেশি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। বেকারের কারণে উৎপাদন হ্রাস, নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, ভিক্ষাবৃত্তি, মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সমাজে নানা ধরনের অপরাধ জন্ম হয়। তাই বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। 


৫. পুষ্টিহীনতা :

পুষ্টিহীনতা শারীরিক সমস্যা হলেও এটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। তবে সাধারণভাবে খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাই পুষ্টিহীনতা। পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক শিশু প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করছে। এছাড়াও এই প্রভাবে স্বাস্থ্যহীনতা, বিকলাঙ্গতা, ভিক্ষাবৃত্তি, শ্রমশক্তি হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা তৈরি হয়। পুষ্টির অভাবে শিশু প্রতিবন্ধী হয়। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা একটি সামাজিক সমস্যা। তাই জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে পুষ্টিহীনতা সমস্যা দূর করা প্রয়োজন।


৬. অপরাধ : 

বাংলাদেশে অপরাধ এক ধরনের সামাজিক সমস্যা। সাধারণভাবে রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী কার্যক্রম অপরাধ সেে বিবেচিত। তবে সমাজকর্মের অভিধানে বলা হয়েছে, "Crime is any behavior that violates  a law." বর্তমানে এদেশে অপরাদের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধের পিছনে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই মুখ্য হিসেবে কাজ করে। কালোবাজারি, মজুদদার, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, চোরাচালান | প্রভৃতি অপরাধ এদেশে সংঘটিত হয়। অপরাধের কারণে এদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষের সুন্দ স্বাভাবিক জীবন ধারা বিঘ্নিত হচ্ছে।  তাই অপরাধ সমস্যা মোকাবিলা বা দূরীকরণে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ।


৭. মাদকাসক্তি :

মাদকাসক্তি বাংলাদেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা। যার ফলে ব্যক্তি থেকে শুরু করে গোটা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণভাবে মাদকাসক্তি হলো কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের জটিল ও অভ্যাসগত ব্যবহার যা শরীর বা মনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা, আফিম, মদ, কোকেন, হিরোইন উল্লেখযোগ্য। মাদকাসক্তি সমস্যার কারণে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, নৈতিক অবক্ষয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দারিদ্র্য, মৃত্যুর হার বৃদ্ধিসহ জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে তাই মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। 


৮. বার্ধক্য বা প্রবীণ : 

বার্ধক্য বর্তমানে বাংলাদেশে একটি সামাজিক সমস্যা। মানুষের জীবনের ৬০ বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে বার্ধক্য বা প্রবীণ হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশে প্রবীণ সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবীণদের সমস্যা স্বাস্থ্যগত, চিকিৎসাগত, পেশাগত, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক যেকোনো ধরনের হতে পারে। তাই প্রবীণ সমস্যা দূর করার জন্য যতদূর সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।


সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধের উপায়

সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধের উপায়: নিম্নে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধের উপায়সমূহ আলোচনা করা হলো-


১. তথ্য সংগ্রহ করা : 

সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। কারণ সঠিক তথ্য যেকোনো সমস্যার বা কাজের সফলতার পূর্বশর্ত। সমস্যার প্রকৃত কারণ, প্রভাব, পরিধি, গভীরতা এসব বিষয় সম্পর্কে যত বেশি কার্যকর তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, তত বেশি সমস্যার সমাধান সহজ ও . কার্যকর হবে। তাই সামাজিক সমস্যার সমাধানের প্রাথমিক উপায় হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করা অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

 

২. তথ্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ : 

সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয় সেগুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা সামাজিক সমস্যার অন্যতম পূর্বশর্ত। কারণ তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যার গতি, প্রকৃতি জানা যায় । তথ্য বিশ্লেষণের জন্য গবেষণা ও পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। সামাজিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো শ্রেণিকরণ, সারণিকরণ ও সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাধান ব্যবস্থাকে অধিক কার্যকরী করা যায়।


৩. পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন : 

সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কারণ পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ করলে তার সফলতার সম্ভাবনা কম। তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের পর সমস্যা সমাধানের জন্য Treatment Plan তৈরি করা প্রয়োজন। সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনার সময় বাজেট সময়সীমা ও বাস্তবমুখী নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এসব কাজ সঠিকভাবে হলে সমস্যার সমাধান অনেক সহজ হবে।


৪. সম্পদের যথাযথ সদ্ব্যবহার :

সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ এবং সমাজের ভিতরে যে বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ রয়েছে তার সঠিক ব্যবহার অবশ্যই প্রয়োজন। বিশেষ করে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি চৌর্যবৃত্তি রোধকল্পে বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ ব্যবহার করা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করেও অনেক সামাজিক সমস্যার লাঘব করা যায়। পাশাপাশি মানুষের মানবীয় সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো মানুষকে শিক্ষিত করা ও প্রযুক্তিগত কাজে লাগিয়ে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব ।


৫. কর্মসংস্থান তৈরি : 

সামাজিক সমস্যার কারণ হিসেবে কর্মসংস্থানের অভাব দায়ী। কারণ মানুষ যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমাজে সে সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে সামাজিক সমস্যা এমনিই হ্রাস পায়। তাই সামাজিক সমস্যা দূর করার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব অনেক।


৬. সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ :

সামাজিক সমস্যার মূলে রয়েছে সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার। সমাজের কুপ্রথাগুলো সামাজিক উন্নতি ও অগ্রগতিতে প্রধান অন্তরায় সৃষ্টি করে। আবার কুসংস্কারের কারণে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়। দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, পুষ্টিহীনতা, নারী নির্যাতন, যৌতুকসহ নানা সামাজিক সমস্যা কুসংস্কার থেকে সৃষ্টি। কুসংস্কার দূরীকরণের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমাজকে সচেতন করতে পারলে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা অনেক সহজ হয়।


৭. জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা : 

সামাজিক সমস্যা দূর করার জন্য জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সমস্যা সম্পর্কে জনগণ সচেতন হলে তা সমাধানে তারা এগিয়ে আসে। নারী নির্যাতন, মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য, যৌতুক, দুর্নীতি, অপরাধ, পুষ্টিধীনতা প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘস্থা সমাধান সম্ভব নয়। প্রথমে যেকোনো সমস্যার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণ সচেতন হয়, তারপর জনমত তৈরি করে দলীয় প্রচেষ্টার দ্বারা প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হয়। তাই সামাজিক সমস্যা দূর করার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


৮. নিরক্ষরতা দূরীকরণ:

নিরক্ষরতা দূর করাও সামাজিক সমস্যার সমাধানের একটি উপায়। অজ্ঞ লোকেরা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি করে। যে সমাজে যত বেশি শিক্ষিত সেখানে ততো সামাজিক সমস্যা কম দেখা যায়। নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার সাথে সাথে যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। আর এজন্য শিক্ষাগারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, কারিগরি শিক্ষার বিস্তার প্রভৃতি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।


৯. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ :

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা। এখানে অধিক জনসংখ্যার চাপে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়। ফলে সমাজে নানা ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। খাদ্য উৎপাদন, বিদ্যমান সম্পদের ওপর জনসংখ্যা অধিক চাপ তৈরি করে। ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়। দেশের সম্পদ ও আয়তনের ওপর ভারসাম্য রেখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ সহজ হবে এবং সামাজিক সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। 


১০. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা : 

রাজনৈতিক অস্থিরতা যেকোনো দেশেই সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উৎপাদন খাতে ও কর্মসংস্থান খাতে বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সামাজিক সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্বার্থরক্ষার জন্য সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই সামাজিক সমস্যা দূর করার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন ।


১১. মানব সম্পদ উন্নয়ন : 

আমাদের দেশে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক। এই জনসংখ্যার বৃহত্তর অংশ অদক্ষ বেকার। তাদেরকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে পারলে সামাজিক সমস্যা এমনিতেই হ্রাস পাবে। তাই বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আবার যেসব দক্ষ জনশক্তি রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করাও প্রয়োজন।


উপসংহার :


উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক সমস্যা কোনো সমাজের জন্যই কাম্য নয়। তারপরও সমস্যা প্রায় প্রতিটি সমাজেরই লক্ষণীয়। সামাজিক সমস্যার জন্য মানুষ যেমন দায়ী তেমনি এর ক্ষতিকর প্রভাব মানুষ ভোগ করে। তাই সামাজিক সমস্যার উপরিউক্ত কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমস্যা সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। বিশেষ করে সমাজকর্মীরা সামাজিক সমস্যার কার্যকরী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

 

 


Post a Comment

Previous Post Next Post